
সোনারগাঁয়ে শাওন হত্যা মামলার আসামিদের তাণ্ডব: বাদীর বাবাকে বাজার থেকে তুলে নিয়ে নির্যাতন
নিজস্ব প্রতিবেদক-
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলায় আলোচিত শাওন হত্যা মামলার আসামিরা জামিনে বের হয়ে মামলার বাদী পরিবারকে মামলা তুলে নিতে চাপ ও হামলার অভিযোগ উঠেছে। সর্বশেষ রোববার (২১ ডিসেম্বর) বিকেলে মহজমপুর উত্তর কাজীপাড়া এলাকার মহজমপুর বাজারে বাদীর বাবা আলী আজগরের ওপর নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সোনারগাঁয়ের মহজমপুর উত্তর কাজীপাড়া এলাকার বাসিন্দা আলী আজগরের ছেলে শাওনকে প্রায় দেড় বছর আগে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় সন্ত্রাসীরা নির্মমভাবে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করে। এ ঘটনায় নিহত শাওনের ভাই মোতালেব বাদী হয়ে সোনারগাঁ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলার পর থেকে অভিযুক্ত আসামিরা জামিনে বের হয়ে বিভিন্ন সময় মামলা তুলে নিতে বাদী মোতালেব ও তার পরিবারের সদস্যদের নানাভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে আসছিল বলে অভিযোগ করা হয়েছে। প্রাণনাশের আশঙ্কায় দীর্ঘদিন ধরে বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র বসবাস করছেন মামলার বাদী মোতালেব।
এরই ধারাবাহিকতায় রোববার বিকেলে নিহত শাওনের বাবা আলী আজগরকে একা পেয়ে বিবাদীরা মহজমপুর বাজারে শাহী মসজিদের সামনে তাকে তুলে নিয়ে দড়ি দিয়ে বেঁধে শারীরিক নির্যাতন চালায়। এ সময় দা, চাপাটি, লোহার রড, লাঠি-সোঁটা সহ দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে বিবাদীরা এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি ও লাঠিপেটা করে গুরুতর আহত করে।
লিখিত অভিযোগে আলী আজগর উল্লেখ করেন, লতিফ, কামরুজ্জামান ওরফে কামু ও বাবুল লোহার রড দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে তার মাথা, দুই পায়ের হাঁটু, হাতের কবজি ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে। এছাড়া বাদশা লাঠি দিয়ে পিটিয়ে জখম করে। একপর্যায়ে তারা তার ছেলে মোতালেবকে তাদের কাছে এনে দিতে চাপ দেয়। এতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখা হয়।
খবর পেয়ে প্রায় দুই ঘণ্টা পর পরিবারের লোকজন তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।
এ ঘটনায় আহত আলী আজগর বাদী হয়ে সোনারগাঁ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযুক্তদের মধ্যে লতিফ, কামরুজ্জামান ওরফে কামু, জাবেদ, বাদশা, বাবুল, ফারুক, সুরুজ মিয়া, জাকির, জাহিদ, হোসেন, মারুফ, মিন্নত আলী ও হামিদুলসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৪/৫ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ মহিববুল্লাহ বলেন,
“ঘটনার বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তালতলা ফাঁড়ির ইনচার্জকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে
Like this:
Like Loading...
Related