
শিবালয়ের আলী মুর্তজা পলাশকে ঘিরে বিস্তর অভিযোগ: সম্পদের উৎস, মামলা ও প্রভাববলয় নিয়ে প্রশ্ন
বিশেষ প্রতিনিধি:
মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার আলী মুর্তজা পলাশকে ঘিরে সম্প্রতি বিভিন্ন মহলে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় একাধিক সূত্র ও সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি, কয়েক বছর আগেও আর্থিক সংকটে থাকা এই ব্যক্তি অল্প সময়ের ব্যবধানে বিপুল সম্পদের মালিক বনে গেছেন। তার এই আকস্মিক উত্থান, সম্পদের উৎস এবং রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রভাববলয় নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, একসময় চরম আর্থিক দুরবস্থায় দিন কাটানো পলাশের বর্তমান জীবনযাত্রা ও সম্পদের পরিমাণ সাধারণ মানুষের মধ্যে বিস্ময়ের জন্ম দিয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, রাজনৈতিক প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে তিনি রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছেন।
বিভিন্ন সূত্রে অভিযোগ উঠেছে, অবৈধ অস্ত্র ব্যবসা, মাদক কারবার, মানবপাচারসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। এছাড়া বিদেশে, বিশেষ করে দুবাই ও সিঙ্গাপুরে তার ব্যবসায়িক যোগাযোগ ও অবস্থানের বিষয়েও নানা তথ্য সামনে এসেছে। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে আলী মুর্তজা পলাশের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক সূত্র জানায়, রাজধানীর বিভিন্ন থানায় তার বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে। এর মধ্যে গুলশান ও যাত্রাবাড়ী থানায় দায়ের হওয়া মামলার তথ্য বিভিন্ন মহলে আলোচিত হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, কয়েকবার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা শুরু হলেও রহস্যজনক কারণে তিনি গ্রেপ্তার এড়িয়ে যান।
অনুসন্ধানে জানা যায়, রাজধানীর মিরপুর, গুলশান, বনানীসহ বিভিন্ন এলাকায় তার নামে বা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিপুল সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। অভিযোগ রয়েছে, সামাজিক ও ধর্মীয় আয়োজনের আড়ালে এসব অর্থের একটি অংশ বৈধ করার চেষ্টা করা হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মিডিয়া ও বিনোদন জগতের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলে নিজেকে প্রভাবশালী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করেছেন তিনি। বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠান ও জনসমাগমে অর্থ ব্যয়ের মাধ্যমে রাজনৈতিক ও সামাজিক বলয় শক্তিশালী করার অভিযোগও রয়েছে।
সচেতন মহলের মতে, একজন ব্যক্তিকে ঘিরে এত বিপুল অভিযোগ ওঠার পরও দৃশ্যমান তদন্ত অগ্রগতি না থাকায় জনমনে প্রশ্ন তৈরি হওয়াই স্বাভাবিক। তারা বলছেন, অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে সত্যতা যাচাই করা এখন সময়ের দাবি।
আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হলে প্রভাবশালী বা বিত্তশালী—কেউই আইনের ঊর্ধ্বে থাকতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের দাবি, দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।