
সোনারগাঁয়ে আলো ফেরানোর প্রয়াস-বিনামূল্যে চক্ষু পরীক্ষা, স্বল্প মূল্যে চশমা পেলেন গ্রামীণ মানুষ
মইন আল হোসাইন-
মানুষের জীবনে আলো দেখার অন্যতম মাধ্যম চোখ—আর সেই চোখের যত্নে এক মানবিক উদ্যোগের দৃষ্টান্ত স্থাপন করল VisionSpring ও Sajida Foundation। নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে তাদের যৌথ উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হলো বিনামূল্যে চক্ষু পরীক্ষা ও স্বল্প মূল্যে চশমা প্রদান ক্যাম্প, যা গ্রামীণ সাধারণ মানুষের মাঝে আশার আলো জাগিয়েছে।
গত ২৭ এপ্রিল, সোমবার উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডে আয়োজিত এ চক্ষু ক্যাম্পে ভিড় করেন নানা বয়সী মানুষ। যাদের অনেকেই দীর্ঘদিন ধরে দৃষ্টিজনিত সমস্যায় ভুগলেও চিকিৎসা নেওয়ার সুযোগ পাননি। দিনব্যাপী এই কর্মসূচিতে মোট ৬৫ জন ৩৫ বছরোর্ধ্ব ব্যক্তিকে বিনামূল্যে চোখ পরীক্ষা করা হয়। তাদের মধ্যে ৫৪ জনের প্রেসবায়োপিয়া বা নিকট দৃষ্টির সমস্যা শনাক্ত হয় এবং ৫২ জনকে মাত্র ১৫০ টাকায় প্রয়োজনীয় চশমা সরবরাহ করা হয়।
চোখে নতুন চশমা পেয়ে অনেকেই আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন। কেউ বলেন, “অনেকদিন পর স্পষ্টভাবে দেখতে পারছি”—আবার কেউ জানান, “এতো কম খরচে এমন সেবা আগে কখনো পাইনি।” যেন এই ছোট উদ্যোগই তাদের জীবনে নতুন করে আলো ছড়িয়ে দিয়েছে।
ক্যাম্পটি পরিদর্শন করেন ভিশনস্প্রিং-এর আরজিআইএল সাউথ এশিয়ার প্রধান খানিন্দ্র কালিকা ও পরিচালক মোঃ শাহরুজ জলিল। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন মনাইমুল ইসলাম সিজার ও মোঃ আব্দুল মতিন। সাজেদা ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন প্রজেক্ট ম্যানেজার খাদেম আলা দ্বীন, ফিল্ড অপারেশন ম্যানেজার আমিনুল ইসলাম এবং জোনাল ম্যানেজার হাবিবুর রহমান। পুরো কার্যক্রমটি দক্ষতার সাথে পরিচালনা করেন প্রোগ্রাম অফিসার দিদার হোসেন।
স্থানীয়ভাবে উপস্থিত ছিলেন পিরোজপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সমাজসেবক রফিকুল ইসলাম, যিনি এই উদ্যোগকে এলাকার জন্য অত্যন্ত সময়োপযোগী ও কল্যাণমূলক হিসেবে উল্লেখ করেন।
পরিদর্শনকালে অতিথিরা বলেন, “চোখ মানবদেহের অমূল্য সম্পদ। সময়মতো চিকিৎসা না নিলে দৃষ্টিশক্তি স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই গ্রামীণ জনগণের দোরগোড়ায় চক্ষু সেবা পৌঁছে দিতে আমরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি।”
উল্লেখ্য, সাজেদা ফাউন্ডেশনের ডেভেলপমেন্ট কর্মসূচির আওতায় আরজিআইএল প্রকল্প বর্তমানে দেশের ২৮টি জেলার ৯৩টি উপজেলায় কার্যক্রম পরিচালনা করছে এবং ইতোমধ্যে ১ লাখ মানুষের নিকট দৃষ্টি সংশোধনের মাধ্যমে তাদের জীবনে নতুন আলো এনে দিয়েছে।
মানবিক এ উদ্যোগ প্রমাণ করে—সঠিক সময়ে সামান্য সহায়তাও বদলে দিতে পারে মানুষের জীবন, ফিরিয়ে দিতে পারে হারিয়ে যাওয়া আলোর হাসি।